কক্সবাজারে পরিবেশবান্ধব ই-বাইক রেন্টাল সার্ভিস ‘ইজিগো’: পর্যটকদের জন্য এক নতুন স্বাধীনতার গল্প

ইজিগো
ইজিগো

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। প্রতি বছর লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে, বিশেষ করে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। কিন্তু পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থাটি আরও সহজ, স্বাধীন ও পরিবেশবান্ধব করার ভাবনা থেকেই কক্সবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ই-স্কুটার রেন্টাল সার্ভিস ‘ইজিগো’ (Ezygo)।

সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ-চালিত ও পরিবেশবান্ধব এই স্কুটার সার্ভিসের মাধ্যমে পর্যটকরা এখন কোনো রুট বা সময়ের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছেমতো ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ইজিগো-এর প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সিইও মোঃ সাজ্জাতুল ইসলাম এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাম্মেল হোসেন ইভানের সাথে কথা বলে জানা যায় তাঁদের এই উদ্যোগের আদ্যোপান্ত।

কক্সবাজার থেকেই কেন শুরু?
‘ইজিগো’ দলের মতে, কোনো ছোট উদ্যোগের শুরুতে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক বা শক্তিশালী আর্থিক অবস্থা থাকে না। তাই তাঁরা এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন যেখানে সারা দেশের মানুষ বছরে অন্তত একবার হলেও আসে। কক্সবাজারে আগে থেকেই রেন্টাল ব্যবসার একটি মডেল চালু ছিল, তাই মার্কেটও প্রস্তুত ছিল। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই কক্সবাজার থেকে ইজিগো-এর যাত্রা শুরু হয়।

ভ্রমণের স্বাধীনতায় নতুন মাত্রা
ইজিগো সাধারণ রেন্টাল সার্ভিসের ধারণাটিকেই পাল্টে দিয়েছে। পর্যটকরা শুধু একটি কল করলেই হোটেলের নিচে পৌঁছে যায় ইজিগো-এর বাইক। ফিক্সড দাম এবং ডেমেজ পলিসি থাকায় দরকষাকষির কোনো ঝামেলা নেই। এছাড়া কক্সবাজারের বেশ কিছু নামকরা হোটেল ও রেস্তোরাঁর সাথে তাদের পার্টনারশিপ রয়েছে, যার ফলে পর্যটকরা বিশেষ ডিসকাউন্ট বা প্রায়োরিটি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

গ্রাহক পরিদর্শন
গ্রাহক পরিদর্শন

পরিবেশবান্ধব ও শতভাগ নিরাপদ
ইজিগো-এর স্কুটারগুলো শতভাগ ইলেকট্রিক, অর্থাৎ এতে কোনো জ্বালানির প্রয়োজন নেই। শব্দহীন এবং কালো ধোঁয়ামুক্ত এই ই-বাইকগুলো কক্সবাজারের ইকো-ট্যুরিজমে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নিরাপত্তার প্রশ্নেও তারা আপসহীন। তাদের প্রতিটি স্কুটার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনুমোদিত। প্রতিটি ই-বাইকের সাথে পর্যটকদের দুটি হেলমেট দেওয়া হয় এবং স্কুটারগুলোর গতিসীমা ৪৫-৬০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যা নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে।

ব্যাটারি রেঞ্জ ও চার্জিং স্টেশন
একটি সম্পূর্ণ চার্জ করা ই-বাইক নিয়ে পর্যটকরা অনায়াসেই ৯০+ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘুরে আসতে পারেন। দীর্ঘ রাস্তার কথা মাথায় রেখে সুগন্ধ্যা ও ইনানীতে ইজিগো-এর দুটি প্রধান চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পর্যটকরা সহজেই চার্জিং সুবিধা পান এবং পথে কোনো টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়েন।

গ্রাহকদের সাড়াও উৎসাহব্যঞ্জক
উদ্যোক্তারা জানান, পর্যটকদের দিক থেকে তাঁরা দারুণ সাড়া পাচ্ছেন। উইকেন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে তাদের সার্ভিস প্রায় সোল্ড আউট থাকে এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কক্সবাজারের পর্যটনে নতুন দিগন্ত
ইজিগো-এর ভিশন শুধু ই-বাইকে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে তাঁরা পুরো কক্সবাজারের পর্যটক পরিবহনে একটি নতুন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চান। শুধু দুই চাকার স্কুটারই নয়, বরং তিন চাকার 'টমটম' বা চার চাকার 'সেলফ-ড্রিভেন' গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সেই সাথে এমন একটি 'সুপার অ্যাপ' চালু করার কথা ভাবছেন, যার মাধ্যমে পর্যটকরা বুকিং থেকে শুরু করে সব ধরনের সেবা সহজেই পেতে পারেন।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ
নতুন স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের প্রতি ইজিগো টিমের পরামর্শ হলো: "নতুন মার্কেট তৈরি করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। তাই এমন সমস্যার সমাধান বের করা জরুরি, যা মানুষ প্রতিনিয়ত ফেস করছে। তবে অবশ্যই মার্কেট যাচাই এবং সার্ভে করতে হবে। নিজের ধারণা নয়, বরং ১০০ জন মানুষের সাথে কথা বলে প্রকৃত সমস্যাটি বুঝতে হবে এবং তার পর সমাধানে নামতে হবে।"

ইজিগো-এর এই উদ্যোগ কক্সবাজারের পর্যটন খাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেবাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বা বুকিং করতে প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর (01576-597666) অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ezygobd.com)-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

মূল প্রতিবেদন: Voice of Startup Bangladesh

← সব সংবাদ