এন্থ্রপিকের রেকর্ড লোকসান: ৬ মাসে আয় ১৬.৩ বিলিয়ন, অথচ গচ্চা ৮০.৭ বিলিয়ন ডলার!

জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট 'ক্লড' (Claude)-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এন্থ্রপিক (Anthropic) ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অভাবনীয় আর্থিক পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ফাঁস হওয়া একটি আইপিও (IPO) ড্রাফট প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০.৭ বিলিয়ন ডলারে।
এত বিপুল লোকসানের আসল কারণ
আপাতদৃষ্টিতে ৮০.৭ বিলিয়ন ডলারের লোকসানকে কোম্পানির নগদ অর্থের ঘাটতি মনে হলেও, পেছনের মূল কারণ ভিন্ন।
অ্যাকাউন্টিং চার্জ: এই বিপুল লোকসানের মধ্যে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারই হলো 'নন-ক্যাশ অ্যাকাউন্টিং চার্জ'। মূলত তহবিল সংগ্রহের জন্য এন্থ্রপিক যেসব আর্থিক ইনস্ট্রুমেন্ট ইস্যু করেছিল, সেগুলোর ভ্যালুয়েশন পরিবর্তনের কারণে কাগজে-কলমে এই লোকসান দেখানো হয়েছে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কম্পিউট খরচ: অপারেশনাল ক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত খরচও হু হু করে বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসেই কম্পিউট ও সার্ভারের পেছনে তারা প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে এই খরচ ছিল মাত্র ৭.৩ বিলিয়ন ডলার।
আয়ের বিশাল উল্লম্ফন
কাগজে-কলমে লোকসান থাকলেও এন্থ্রপিকের মূল ব্যবসায়ে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগের বছরের একই সময়ে তাদের আয় ছিল মাত্র ১.১ বিলিয়ন ডলার, যা এক লাফে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু তৃতীয় প্রান্তিকেই (Q3) তাদের আয় হয়েছে ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ এক কোয়ার্টারেই তারা আগের ছয় মাসের সমান আয় করেছে।
শেয়ার বাজার বা আইপিও পরিকল্পনা
আগামী নভেম্বরের মধ্যেই (২০২৬) এন্থ্রপিক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে শেয়ার বাজারে (IPO) তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আইপিওতে তাদের প্রত্যাশিত বাজারমূল্য হতে পারে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলার।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি এবং বিশাল ক্লাউড চুক্তি
সামনের দিনগুলোতে এআই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে এন্থ্রপিক ক্লাউড প্রোভাইডারদের সাথে প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের কম্পিউট সক্ষমতা কেনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে গুগলের (Google) সাথে ১১১ বিলিয়ন, অ্যামাজনের (AWS) সাথে ১১০ বিলিয়ন এবং মাইক্রোসফটের (Microsoft) সাথে ৩১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
তবে ড্রাফটে দুটি বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে: প্রথমত, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলো এন্থ্রপিককে ক্রমশ গ্রাহকের বদলে 'প্রতিযোগী' হিসেবে দেখছে, ফলে প্রয়োজনীয় সার্ভার পাওয়া কঠিন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোম্পানিটির মোট আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসছে মাত্র দুটি বড় গ্রাহকের পকেট থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বিশাল অঙ্কের লোকসান সত্ত্বেও এন্থ্রপিকের আয়ের আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এআই খাতের এই প্রতিযোগিতায় তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
