প্রিয়জনকে চমকে দিতে নতুন উপায়: সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে তৈরি পার্সোনালাইজড ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম 'Wishly'

প্রিয় মানুষের জন্মদিন, ভালোবাসার প্রকাশ বা কোনো বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনে আমরা সাধারণত মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ব্যবহার করি। কিন্তু এই সাধারণ মাধ্যমগুলোকে পাশ কাটিয়ে, বিশেষ মুহূর্তগুলোকে চিরস্মরণীয় করতে সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘Wishly’ (উইশলি)। এটি এমন একটি ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যে-কেউ কোডিংয়ের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রিয়জনের জন্য তৈরি করতে পারবেন একটি সুন্দর, পার্সোনালাইজড বা কাস্টম ওয়েবসাইট।
প্ল্যাটফর্মটির পেছনের গল্প, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি ‘ভয়েস অব স্টার্টআপ বাংলাদেশ’-এর সাথে কথা বলেছেন Wishly-এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীন ওয়েব ডেভেলপার আরএ ফাহিম (RA Fahim)।
Wishly তৈরির অনুপ্রেরণা
Wishly তৈরির পেছনের গল্পটা খুবই সাধারণ, যা সবার জীবনের সাথেই মিলে যায়।
আরএ ফাহিম বলেন, "সবাই তাদের প্রিয়জনদের সাথে আবেগ ও বিশেষ মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে চায়। আমি ভাবলাম, শুধু একটি টেক্সট মেসেজ না পাঠিয়ে, যদি একজন আরেকজনের জন্য একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে, তাহলে কেমন হয়? এমন কিছু যা ব্যক্তিগত, অপ্রত্যাশিত এবং যা প্রাপক দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারবেন। এই ভাবনা থেকেই Wishly-এর যাত্রা শুরু।"
প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি, মিউজিক, ভিডিও এবং পার্সোনাল মেসেজ দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটি একটি লিংকের মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন।
লঞ্চের ২০ দিনেই ৯০০+ মেম্বার ও আন্তর্জাতিক সাড়া
বাংলাদেশের বাজারের কথা মাথায় রেখে Wishly লঞ্চ করা হলেও, এর রেসপন্স ছিল অবাক করার মতো। কোনো পেইড মার্কেটিং ছাড়াই শুধুমাত্র ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে লঞ্চ করার প্রথম ২০ দিনেই প্ল্যাটফর্মটিতে ৯০০-এর বেশি মেম্বার যুক্ত হন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীরাও এতে যুক্ত হতে শুরু করেন।

বর্তমানে Wishly-তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ‘বার্থডে’ ক্যাটাগরি এবং ‘মাস্টার বার্থডে টেমপ্লেট’।
উন্নয়নের পেছনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ
কোডিং না জানা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। একজন ইনডিপেনডেন্ট ডেভেলপার হিসেবে ফাহিমকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—একটি ফ্লেক্সিবল টেমপ্লেট সিস্টেম তৈরি, ভিজ্যুয়াল ওয়েবসাইট এডিটর, ইমেজ ও মিডিয়া সাপোর্ট, লাইভ প্রিভিউ, শেয়ার করার উপযোগী ওয়েবসাইট লিংক জেনারেশন এবং সিকিউরড ইউজার ড্যাশবোর্ড তৈরি করা। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এটি নিশ্চিত করা যে, ব্যবহারকারীর কাস্টমাইজেশনের ফলে যেন মূল টেমপ্লেটের ডিজাইন ভেঙে না যায়। এছাড়া বাংলাদেশের মোবাইল-নির্ভর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিকে পুরোপুরি মোবাইল রেসপন্সিভ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাসটেইনেবিলিটি
বর্তমানে Wishly সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটিতে কোনো প্রিমিয়াম টেমপ্লেট বা বিজ্ঞাপন নেই।

ফাহিমের মতে, "আমি চেয়েছি পেমেন্টের কোনো চিন্তা ছাড়াই মানুষ তাদের প্রিয়জনের জন্য কিছু তৈরি করুক। তবে ইউজার ও ট্রাফিক বাড়ার সাথে সাথে হোস্টিং ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার খরচও বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি সাসটেইনেবিলিটির জন্য ভবিষ্যতে হয়তো অপশনাল পেইড সার্ভিস বা প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত করা হতে পারে, তবে তা কখনোই Wishly-এর মূল ভিশনকে বাধাগ্রস্ত করবে না।"
ভবিষ্যতে Wishly-কে পার্সোনালাইজড ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স তৈরির একটি পরিচিত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। নতুন ফিচারের মধ্যে ‘অ্যানোনিমাস মেসেজিং এক্সপেরিয়েন্স’ এবং আরও সমৃদ্ধ মাল্টিমিডিয়া টুলস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
Wishly প্রমাণ করেছে যে, মানুষের আবেগের সাথে প্রযুক্তির সঠিক মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে বড় কোনো বিজ্ঞাপন বাজেট ছাড়াও একটি প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে বা আপনার প্রিয়জনের জন্য একটি সারপ্রাইজ ওয়েবসাইট তৈরি করতে ভিজিট করুন: https://wishly.rafahim.com/
